"গল্পটা শুরু হয়েছিল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের এক গুমোট রাতে। আমি আর আমার রুমমেট একই জবের জন্য আবেদন করেছিলাম—যে চাকরিটা ওর পরিবারের দেউলিয়া হওয়া ঠেকানোর একমাত্র উপায় ছিল। ও আমার চেয়ে অনেক বেশি যোগ্য ছিল, রেজাল্টও ভালো ছিল। কিন্তু যখন শর্টলিস্ট বের হলো, আমার নাম ছিল, ওর ছিল না। পার্থক্যটা আমাদের যোগ্যতায় ছিল না, ছিল এক টুকরো কাগজে। ওর অগোছালো সিভিটা কোনো মানুষের কাছে পৌঁছানোর আগেই ATS সফটওয়্যার বাতিল করে দিয়েছিল। আমাদের কোনো কম্পিউটার ছিল না, তাই একটা সাধারণ সিভি ফরম্যাট করার জন্য হলের বড় ভাইদের দরজায় দরজায় ভিখারির মতো ঘুরেছিলাম। কেউ হেসে উড়িয়ে দিয়েছে, কেউ দিনের পর দিন ঘুরিয়েছে, আর কেউ মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। চোখের সামনে একটা উজ্জ্বল মেধাকে স্রেফ একটা কাগজের কাছে হেরে যাওয়ার অপমান আমাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। আমি সেই চাকরির অফারটা ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। সেদিনই সিদ্ধান্ত নিই, শুধু একটা সিভি বানাতে না পারার কারণে আর কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন যেন ভেঙে না যায়। নিজে কাজ শিখে বন্ধুদের সাহায্য করা শুরু করি, আর জন্ম নেয় '৩০ টাকার সিভি'। আমরা মাত্র ৩০ টাকা নিচ্ছি—যা ক্যাম্পাসের টং দোকানের এক কাপ চা আর বিস্কুটের দামের সমান। এটা কোনো লাভের ব্যবসা নয়; এই সামান্য টাকাটা নেওয়া হয় শুধু সার্ভার আর এপিআই (API) এর খরচ মেটানোর জন্য, যেন এই প্ল্যাটফর্মটা কখনো বন্ধ না হয়ে যায়। কারণ আমরা জানি, মেধা দিয়ে ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হওয়া উচিত, পিডিএফ ফরম্যাটিংয়ের ভুলে নয়।"
— বাই ফাউন্ডার